সিঙ্গাপুরে বেঙ্গলি কমিউনিটির বর্ষবরণ

পুরোনো বছরের জ্বরা, ক্লান্তি, গ্লানিকে পেছনে ফেলে চির নতুনের ডাক দিয়ে এল পয়লা বৈশাখ। নিজের দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করেও বিদেশের মাটিতে উদ্‌যাপন করা হয় বাঙালির ঐতিহ্য বৈশাখ। এরই ধারাবাহিকতায় বেঙ্গলি কমিউনিটি সিঙ্গাপুরের (বিসিএস) উদ্যোগে সিঙ্গাপুারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের একাংশ। পয়লা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) মার্সিলিং পার্কে নববর্ষ উদ্‌যাপন করেন তাঁরা।

সকাল সাড়ে দশটায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর খেলাধুলা, বাঙালি খাবার পান্তা–ইলিশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলা নতুন বছর ১৪২৬ সনকে বরণ করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

দিনব্যাপী চলা এ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শুরু হয় স্বদেশি খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে। বিদেশের মাটিতে নানা আয়োজনের উপস্থিত সবাইকে আনন্দিত করে তোলে। যেন প্রবাসের মাটিতে এক টুকরো বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে আসা একজনের কাছে জানতে চাওয়া হয় বৈশাখ উদ্‌যাপনের ইতিহাস জানেন কি না? তিনি হাসিমুখে বলেন, রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য মোগল সম্রাট আকবরের আমলে বৈশাখ থেকে প্রবর্তন হয়েছিল বাংলা সনের। বর্ষ শুরুর সেই দিনটিই এখন বাংলাদেশিদের প্রাণের উৎসব। আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য ফসলি সালের শুরু করেছিলেন হিজরি চান্দ্রবর্ষকে বাংলা সালের সঙ্গে সমন্বয় করে। তিনি পয়লা বৈশাখ থেকে বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেছিলেন। আর বৈশাখ নামটি নেওয়া হয়েছিল নক্ষত্র বিশাখার নাম থেকে।

তিনি আরও বলেন, পয়লা বৈশাখ কোনো বিজাতীয় সংস্কৃতি নয়। এটা আমাদের বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। এটা কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়, তাই সমাজের সব শ্রেণির মানুষ পয়লা বৈশাখ ব্যাপক উদ্দীপনার মাধ্যমে উদ্‌যাপন করে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে প্রবাসী বাঙালি পরিবারের সদস্যরা গান পরিবেশন করেন। তাঁদের পাশাপাশি অভিবাসী কর্মীদের সংগীত দল ফ্রিডম ব্যান্ড গান ও শিশু–কিশোরেরা নৃত্য পরিবেশন করে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিসিএসের সভাপতি উত্তম কুমার নাগ, সাধারণ সম্পাদক হরি দাস বসাকসহ জওহরলাল সূত্রধর, অমিতাভ নাগ ও অন্য সদস্যদের পাশাপাশি প্রবাসী শিশু-কিশোর-বৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপভোগ করেন।

প্রবাসে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে সংগঠনের অর্থ সম্পাদক পঙ্কজ কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘শুধু এ বছরই নয়, আমরা এর আগেও উৎসাহ–উদ্দীপনার মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করেছি। এ ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা প্রবাসেও আমাদের সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চাই। যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম প্রবাসে অবস্থান করেও আমাদের সংস্কৃতি ভুলে না যায়।’

উত্তম কুমার নাগ বলেন, ‘আগামী দিনে স্বদেশি সংস্কৃতি বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। আশা করি, বিদেশের মাটিতেও আমাদের সন্তানেরা তাদের বুকে লালন করে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।