জেনেভায় বসন্ত উদ্‌যাপন

বসন্তবরণ আমাদের লোকজ ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রীতিতে বসন্তকে বরণ করার রেওয়াজ আছে। গ্রিক, রোমান, সুমেরীয়, মিসরীয়, ব্যাবিলন থেকে শুরু করে বৈদিক পুরানে বসন্ত নিয়ে নানান গল্পগাথা কথা এখনো প্রচলিত। অবশ্য শোনা যায়, সুলতান আকবরের শাসনামল থেকে বাংলায় বসন্তবরণের প্রচলন শুরু হয়। এবার আসা যাক, আমার লেখার পটভূমিতে।

গত ১ ফাল্গুন (১৩ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভার কনফিনন এলাকায় হয়ে গেল বাঙালির বসন্তবরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটিকে ব্যতিক্রম বলব এই জন্য, আয়োজকেরা ছিলেন নারী। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইচ্ছায় স্বপ্রণোদিত হয়ে আন্তরিকভাবে দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে এই বসন্তবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এক সপ্তাহ আগে আমার কাছে আমন্ত্রণ চলে আসে। ঘরের চৌহদ্দি পেরিয়ে যারা অনুষ্ঠানটিকে নিজেদের সাধ্যের মধ্যে এনে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তাদের নামগুলো না নিলেই নয়।

সোমা রহমান, মিলি হোসেন, নিশাত রহমান, সৃষ্টি চৌধুরী, কেয়া চৌধুরী, পূর্ণিমা খান, দিলারা আনোয়ার, তাসলিমা চৌধুরী, মিসেস লিপি, বেলি ও লতা—তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ও পরিশ্রমে সম্পূর্ণ ঘরে তৈরি খাবার পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিতে সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রা যোগ হয়। কথা ছিল, প্রত্যেকে দুটি করে খাবারের পদ রান্না করে নিয়ে যাবেন বসন্তবরণ অনুষ্ঠানে।

সেই অনুসারে খাবারের মেনুতে ছিল আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার কাচ্চি বিরিয়ানি, খাসির মাংস, কাবাব, রোস্ট, চিংড়ি ভুনা, ডিম ভুনা, বোরহানি, চটপটি, বালুশাই মিষ্টি, পায়েস, তেলের পিঠা ও দই। ভোজনবিলাসী বাঙালির আর কী লাগে। আর সেইসঙ্গে চলতে থাকে মুখর আড্ডা, হাসি-গল্প ও চারুকলার বসন্তোৎসবের স্মৃতিচারণ। আমার সব সময় মনে হয়, আমাদের সমস্ত লোকজ উৎসব, আচার অনুষ্ঠান মানে হচ্ছে আমাদের সম্প্রীতি ও জাতিগত ঐক্যের মহাসম্মিলন।

উৎসব যতই ছোটখাটো হোক বিদেশের মাটিতে বসে নিজেদের সমস্ত মতভেদ ভুলে গিয়ে একই বৃত্তে এসে শুধুমাত্র দেশপ্রেম জিইয়ে থাকুক প্রতিটা বাঙালির বাঙালিয়ানায়। ঋতুরাজ বসন্ত আমাদের সবার জীবনে শুভবোধ জাগ্রত করুক। দুপুর গড়িয়ে রাত পর্যন্ত চলা অক্লান্ত পরিশ্রমের এই অনুষ্ঠানের পেছনে অনুপ্রেরণায় ছিলেন মশিউর রহমান, চৌধুরী আমজাদ, সাদাত হোসেন, মোজাম্মেল হক, চৌধুরী জাভেদ, চৌধুরী জাহিদ ও রাফিন প্রমুখ।