লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা, বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেজা জিয়ার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ ফ্রেব্রুয়ারি)। এ রায়কে ঘিরে বাংলাদেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের অন্য দেশেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন বিএনপি কর্মী ও সমর্থকরা।

এর ধারাবাহিকতায় লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে জোর করে ঢুকে ভাঙচুর করেছেন বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার নেতা-কর্মীরা । একপর্যায়ে তারা সেখানে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করেন। স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগে প্রায় ১০ মিনিট পর্যন্ত বিএনপি কর্মীরা হাইকমিশনের নিচ তলার অভ্যর্থনা কক্ষে হট্টগোল চালান। হাইকমিশনের বিভিন্ন কর্মকর্তার নাম ধরে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এ ঘটনায় পুলিশ যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির আহমদ শাহীনকে আটক করেছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে যুক্তরাজ্য বিএনপি। স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলা ওই বিক্ষোভে দুই শর বেশি নেতা-কর্মী যোগ দেয়।

লন্ডন মহানগর বিএনপির নির্বাহী সদস্য দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকার জোর করে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে বন্দী করতে চায়। সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিতেই আমরা এখানে হাজির হয়েছি।’

বাংলাদেশ হাইকমিশন পশ্চিম লন্ডনের কেনসিংটন এলাকার ‘কুইন্স গেট’ রাস্তায় অবস্থিত। হাইকমিশনের বিপরীত পাশের ফুটপাতে বিএনপিকর্মীদের বিক্ষোভের জন্য বেষ্টনী তৈরি করে দেয় ‍পুলিশ। একপর্যায়ে রাস্তা পার হয়ে বিএনপির বেশ কিছু নেতা-কর্মী হাইকমিশন ভবনে ঢুকে পড়ে।

হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, বিএনপি নেতা-কর্মীরা শুরু থেকেই আগ্রাসী এবং বেপরোয়া ছিল। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে হাইকমিশনের কর্মকর্তা কে এম শামীম রেজা এবং আজিজুর রহমানকে বাইরে নিয়োজিত করা হয়। এদের উদ্দেশ করে বিক্ষোভকারীরা গালাগাল এবং নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে হাইকমিশনের কর্মকর্তা শামীম রেজাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাইকমিশনের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য বিএনপির একজনকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে ওই সময় বিএনপির ১৫ থেকে ২০ জন নেতা-কর্মী ভেতরে ঢুকে পড়ে। অভ্যর্থনা কক্ষে রাখা বঙ্গবন্ধুর একটি ছবির ফ্রেম ভেঙে ছবিটি বাইরে নিয়ে যায়। বিএনপির লোকজন একটি চেয়ারও ভাঙচুর করে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিলেন। কিন্তু হাইকমিশনের কর্মকর্তারা সেখানে তাদের ছবি তুলতে যায়। গুমের লিস্টে নাম দিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। হাইকমিশন তাদের স্মারকলিপি দেওয়ার অনুমতি দিচ্ছিল না। যে কারণে নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়। আজ স্থানীয় সময় ভোর চারটা (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা) থেকে বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মীরা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করবে বলে জানান এম এ মালেক।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে যুক্তরাজ্য বিএনপির আবারও বিক্ষোভ করার কথা ছিল। কিন্তু সেটি বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি বলেন, ‘হাইকমিশনে সব আওয়ামী লীগের লোক। ওরা আমাদের স্মারকলিপি নিতে চায় না। তাই তাদের কাছে গিয়ে কোনো লাভ নেই’।