নিউ ইয়র্কের স্কুলে প্রি-কে ক্লাসে বাংলা চালু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোর প্রি-কে ক্লাসে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাংলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার ‘নিউ ইয়র্ক স্কুল সিটি’র স্কুল চ্যান্সেলর কারমেন ফারিনা এ ঘোষণা দিয়েছেন। আসছে সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাবর্ষে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

একইসাথে স্প্যানিশ, চায়নিজ, রাশিয়ান, ইটালিয়ান ভাষাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কুইন্স বরোতে ১১, ব্রুকলিনে ২০, ম্যানহাটানে ১৪, ব্রঙ্কসে ১০ ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ড বরোর চারটি স্কুলের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে ইতোমধ্যেই। বিদ্যমান প্রি-কে ক্লাসে ২০ হাজারের অধিক শিশু ক্লাস নিচ্ছে বলেও শিক্ষা দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে স্কুল চ্যান্সেলর বলেন, “বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শনকালে প্রি-কে বা থ্রি-কে (৩ বছর বয়েসীদের জন্যে) ক্লাসে দেখেছি যে অর্ধেক শিশুই তাদের মা-বাবার ভাষায় কথা বলে। বাকি অর্ধেক ইংরেজী ব্যবহার করে। দ্বিভাষিক ক্লাসে তারা নিজেদের ভাষার সাথে আরও সুন্দরভাবে পরিচিত হতে সক্ষম হবে। একইসাথে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে আরও নিবিড়ভাবে পরিচিত হতে পারবে।”

কারমেন ফারিনা আরও বলেন, “বিভিন্ন ভাষায় কথা বলা এবং পাঠের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ সংস্কৃতি সম্পর্কেও শিশুরা অবহিত হতে পারবে। এভাবেই এই সিটির শিশুরা আমেরিকা সৃষ্টির ঐতিহ্য আর মূল্যবোধকে মহিমান্বিত করার পথ সুগম করবে। আর এজন্যেই নিউ ইয়র্ক সিটির স্কুলগুলোতে প্রি-কে-তে দ্বিভাষিক ক্লাসের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হলো। শুরুতেই তারা যদি দুটি ভাষার সাথে সম্যক জ্ঞানলাভে সক্ষম হয়, তাহলে এসব শিশুর জীবনধারাও পাল্টে যাবে খুব সহজে।”

তিন বছর হলেই সন্তানকে স্কুলে নেওয়ার ব্যাপারটি তদারক করেন ডেপুটি চ্যান্সেলর যোশ ওয়ালেক। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের প্রতিটি পরিবারকে বিনা ফি-তে উচ্চমানের দিনব্যাপী প্রি-কে শিক্ষা প্রদানে বদ্ধপরিকর। সে তাগিদেই দ্বিভাষিক ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হলো।”

কংগ্রেসওম্যান নিদিয়া ভ্যালেস্কুয়েজ নতুন এ ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বাসায় মা-বাবা যে ভাষায় কথা বলেন, সেই ভাষাকেও ক্লাসে গুরুত্ব দেওয়ায় শিশুরা আরও উৎসাহিত হবে আমেরিকান ভাষার প্রতি।”

কয়েক বছর আগেই নিউ ইয়র্ক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ওয়েবসাইটও বাংলায় করা হয়েছে। অভিভাবকেরা মাঝেমধ্যেই বাংলায় নির্দেশিকাসহ যাবতীয় চিঠি পেয়ে থাকেন।