মেসিকে হারিয়ে ব্যালন ডি’অরও রোনালদোর

লিওনেল মেসিকে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে এক অনুষ্ঠানে পুরস্কারজয়ী হিসেবে পর্তুগিজ অধিনায়কের নাম ঘোষণা করে ফরাসি ম্যাগাজিন ‘ফ্রান্স ফুটবল’। বিশ্বজুড়ে ১৭৩ জন সাংবাদিকদের ভোটে সবাইকে পিছনে ফেলে পুরস্কারটি জিতলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

গত অক্টোবরে চির প্রতিদ্বন্দ্বী মেসিকে হারিয়েই টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ‘দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার’ জেতেন রোনালদো।

ব্যক্তিগত দারুণ পারফরম্যান্স দেখানোর পাশাপাশি এ বছর রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চারটি শিরোপা জেতায় রোনালদোর পঞ্চম ব্যালন ডি’অর পাওয়াটা অনুমিতই ছিল।

২০০৮ সালে প্রথমবার ফিফার বর্ষসেরা ও ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতেছিলেন রোনালদো। দুটি পুরস্কার একীভূত হওয়ার পর ২০১৩ ও ২০১৪ সালের ফিফা ব্যালন ডি’অর জেতেন পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ড। দুটি পুরস্কার আলাদা হয়ে যাওয়ার পর গত বছর ব্যালন ডি’অর ও দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।

গত মৌসুমে রিয়ালের লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল রোনালদোর। লিগে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ গোল করার পথে শেষ তিন রাউন্ডে পাঁচ গোল করে শিরোপা জয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নকআউট পর্বে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি কীর্তি গড়েন নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার।

ফাইনালে দুটিসহ সর্বোচ্চ ১২টি গোল করেন, যার ১০টিই ছিল নকআউট পর্বে। টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গত মৌসুমে ১০০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেন রোনালদো।

গত মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন ক্লাবের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো।

এ বছরে জাতীয় দলের হয়েও দারুণ ছন্দে ছিলেন রোনালদো। আগামী বছর হতে যাওয়া রাশিয়া বিশ্বকাপে দলকে তুলতে বাছাইপর্বে শেষ ছয় ম্যাচে করেন একটি হ্যাটট্রিকসহ আটটি গোল ।

সেরা ত্রিশ

প্রথম: ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ, পর্তুগাল)

দ্বিতীয়: লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা, আর্জেন্টিনা)

তৃতীয়: নেইমার (পিএসজি, ব্রাজিল)

চতুর্থ: জানলুইজি বুফ্ফন (ইউভেন্তুস, ইতালি)

পঞ্চম: লুকা মদ্রিচ (রিয়াল মাদ্রিদ, ক্রোয়েশিয়া)

ষষ্ঠ: সের্হিও রামোস (রিয়াল মাদ্রিদ, স্পেন))

সপ্তম: কিলিয়ান এমবাপে (পিএসজি, ফ্রান্স)

অষ্টম: এনগোলো কঁতে (চেলসি, ফ্রান্স)

নবম: রবের্ত লেভানদোভস্কি (বায়ার্ন মিউনিখ, পোল্যান্ড)

দশম: হ্যারি কেইন (টটেনহ্যাম হটম্পার, ইংল্যান্ড)

একাদশ: এদিনসন কাভানি (পিএসজি, উরুগুয়ে)

দ্বাদশ: ইসকো (রিয়াল মাদ্রিদ, স্পেন)

ত্রয়োদশ: লুইস সুয়ারেস (বার্সেলোনা, উরুগুয়ে)

চতুর্দশ: কেভিন ডি ব্রুইন (ম্যানচেস্টার সিটি, বেলজিয়াম)

পঞ্চদশ: পাওলো দিবালা (ইউভেন্তুস, আর্জেন্টিনা)

ষোড়শ: মার্সেলো (রিয়াল মাদ্রিদ, ব্রাজিল)

সপ্তদশ: টনি ক্রুস (রিয়াল মাদ্রিদ, জার্মানি)

অষ্টাদশ: অঁতোয়ান গ্রিজমান (আতলেতিকো মাদ্রিদ, ফ্রান্স)

১৯তম: এডেন হ্যাজার্ড (চেলসি, বেলজিয়াম)

২০তম: দাভিদ দে হেয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, স্পেন)

যৌথভাবে ২১তম: লিওনার্দো বোনুচ্চি (এসি মিলান, ইতালি) ও পিয়েরে-এমেরিক আউবামেয়াং (বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, গ্যাবন)

২৩তম: সাদিও মানে (লিভারপুল, সেনেগাল)

২৪তম: রাদামেল ফালকাও (মোনাকো, কলম্বিয়া)

২৫তম: করিম বেনজেমা (রিয়াল মাদ্রিদ, ফ্রান্স)

২৬তম: ইয়ান ওবলাক (আতলেতিকো মাদ্রিদ, স্লোভেনিয়া)

২৭তম: মাটস হুমেলস (বায়ার্ন মিউনিখ, জার্মানি)

২৮তম: এদিন জেকো (রোমা, বসনিয়া)

যৌথভাবে ২৯তম: ড্রিস মের্টেন্স (নাপোলি, বেলজিয়াম) ও ফিলিপে কৌতিনিয়ো (লিভারপুল, ব্রাজিল)

শেষ ১০ বারের বিজয়ীরা:

ব্যালন ডি’অর

২০০৮ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০০৯ লিওনেল মেসি

একীভূত ফিফা ব্যালন ডি’অর

২০১০ লিওনেল মেসি

২০১১ লিওনেল মেসি

২০১২ লিওনেল মেসি

২০১৩ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০১৪ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০১৫ লিওনেল মেসি

ব্যালন ডি’অর

২০১৬ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০১৭ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো