জনগণ ভোট দিয়েছিল বলেই মেয়াদ পূরণ করতে পারছিঃ হাসিনা

বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ওই নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ ছিল বলেই সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করতে পারছে।

ওই নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তির পরদিন শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তিনি বলেন, “পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন কোনোভাবেই ভোটারবিহীন হয় নাই। ৪০ পার্সেন্টের ওপর ভোট পড়েছিল।”

নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ নিবন্ধিত অর্ধেকের বেশি দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র দলের নেতারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির নির্বাচন প্রতিহতের কর্মসূচিতে সহিংসতার শঙ্কার মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা যায়।

পরে নির্বাচন কমিশন জানায়, যে সব আসনে নির্বাচন হয়েছে সেগুলোতে ভোট পড়েছে ৪০ শতাংশের উপর।

নির্বাচন প্রতিহতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সহিংস কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “ভোট ঠেকানোর জন্য খালেদা জিয়া আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়েছে, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হত্যা করেছিল। তারপরও এদের মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছে।”

একদলীয় ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ‘গণতন্ত্র হরণ’ করা হয়েছে অভিযোগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, “ওই নির্বাচনে তারা (জনগণ) ভোট দিয়ছে বলেই আমরা চার বছর পূর্ণ করতে পারলাম।”

অন্যদিকে জনগণের সমর্থন না থাকায় ১৯৯৬ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ১৯৮৮ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক এইচএম এরশাদ একদলীয় নির্বাচন করে টিকে থাকতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “খালেদা জিয়া টিকতে পারে নাই। খালেদা জিয়া ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন করেছে, ৩০ মার্চ পদত্যাগে বাধ্য হয়েছে। মাত্র দেড় মাস।

“এরশাদও কিন্তু পারে নাই। এরশাদ ’৮৮ সালে নির্বাচন করেছে। ’৯০-এ তার পতন ঘটেছে।”

আওয়ামী লীগসহ অধিকাংশ দলের বর্জনের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিলেন খালেদা জিয়। আন্দোলনের মুখে এক মাসের মাথায় ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল ওই সরকার।

তার আগে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ অধিকাংশ দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল এরশাদের জাতীয় পার্টি, গণঅভ্যুত্থানে দুই বছরের মাথায় ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

খালেদা জিয়া ও এরশাদের ওই সরকার টিকতে না পারার কারণ হিসেবে ‘ভোট কারচুপির’ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “তারা ভোট চুরি করেছিল। অন্যদিকে গণতন্ত্রকে সুরক্ষা করা- এটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল।”

‘গণতন্ত্র রক্ষার’ ওই নির্বাচনের সমালোচনাকারীদের নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “কিছু লোক কি বিস্মৃতিতে ভোগে? নাকি আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীন করেছিল- এটাই আমাদের অপরাধ।

“আমরা দেখি অনেকের হৃদয়ে ‘পেয়ারে পাকিস্তান’ বিরাজমান।”

ক্ষমতার ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত থাকতে হবে। যারা আল-বদর ও যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে চলে তারা ক্ষমতায় আসলে দেশের জনগণের কল্যাণ হবে না।

“আমাদের জীবন থেকে ২৮ বছর হারিয়ে গেছে। আর যেন একটা দিনও হারাতে না পারে।”