‘কম্প্রোমাইজ’ করতে পারব না – সামিয়া সাঈদ

২০১২ সালে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন সামিয়া সাঈদ। নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করছেন। এখন উপস্থাপনা করছেন ‘রূপচাঁদা-দ্য ডেইলি স্টার সুপার শেফ’। রান্নাবিষয়ক এই রিয়্যালিটি শো উপস্থাপনার ফাঁকে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। জানালেন, তাঁর কর্মপরিকল্পনা ও শোবিজে কাজের অভিজ্ঞতা।

রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান করতে আগ্রহী হলেন কেন?
রান্নার দুটি অনুষ্ঠান আগে উপস্থাপনা করেছি। অন্য রকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল। এবার রিয়্যালিটি শো। আমি নিজেও একটি রিয়্যালিটি শো থেকে এসেছি। তাই এ ধরনের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করার অভিজ্ঞতা নিতে চাই। ভালো লাগছে, রান্নার খুঁটিনাটি বিষয় জানতে পারছি। এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করতে এসে নস্টালজিক হচ্ছি।

কেন?
আমি যেদিন ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার জন্য প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, সেটা ছিল এফডিসিতে। অডিশন দিতে এসে প্রথম এফডিসি দেখি। তার আগে এফডিসি সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি, তা ছবি দেখে। বাংলা ছবিতে হাসপাতাল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, নায়ক-নায়িকার বিলাসবহুল সব বাড়ি, সুইমিংপুল দেখেছি—সবকিছু এখানে এসে আবিষ্কার করেছি। সিনেমায় দেখেছি, কক্সবাজারে রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসছে, এরপর দেখি এফডিসির বাগান। যাঁরা প্রেক্ষাগৃহে বসে ছবিটি দেখছেন, তিনি হয়তো কক্সবাজার গেছেন, এফডিসি যাননি, তিনি পার্থক্যটা ধরতে পারবেন না। আমি কিন্তু পেরেছি।

রান্নার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে এসে কিছু শিখেছেন?
‘ভিম রমজানের রাতের খাবার’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে গিয়ে কেকা আপু (কেকা ফেরদৌসী) জিজ্ঞেস করেন, তুমি প্রেশার কুকার খুলতে পারো? দেখলাম, প্রেশার কুকার খোলা আসলেই কষ্ট। এসব রান্নার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে এসে শিখেছি। বিভিন্ন ধরনের সস কীভাবে তৈরি করে, তা শিখেছি। বাঙালি খাবারগুলো খুব সহজে কীভাবে রান্না করা যায়, এসবও শিখেছি।

আপনি নাটকের কাজ কম করছেন?
আসলেই কম করছি। আমি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ছি।

আপনি তো অর্থনীতি নিয়েও পড়েছেন।
অর্থনীতিতে অনেক অঙ্ক। প্র্যাকটিস করার জন্য সময় পাই না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় পড়ি, আসার সময় পড়ি। শুটিং যাওয়ার পথে পড়ি, শুটিং থেকে ফেরার সময় পড়ি। যানজটের মধ্যে আমি পড়াশোনা করি। তাই অর্থনীতি বাদ দিয়েছি।

নাটকের কাজ কম করছেন কেন?
এক ঘণ্টার নাটক কম করছি, কিন্তু ধারাবাহিক বেশি করছি। ভালো আর বেশি কাজ করার জন্য লিংক লাগে। যেমন ও আমার বন্ধু। আচ্ছা ঠিক আছে, আমরা বন্ধু বন্ধু মিলে সব সময় কাজ করি। এর মধ্যে নতুন আরেক বন্ধু কাজ করবে, তা তো হয় না। এ ছাড়া কিছু বাড়তি ঝামেলা থাকে। আমি যে পরিবার থেকে এসেছি, আমার যে স্ট্যাটাস আর ব্যাকগ্রাউন্ড, ওসব আমি করতে পারব না।

কেমন সেটা?
আমি কাজটা ভালোভাবে করতে পারব। কিন্তু কাজের বাইরে ‘কম্প্রোমাইজ’ করতে পারব না। আমার অল্প দিনের ক্যারিয়ারে কম্প্রোমাইজের অনেক প্রস্তাব এসেছে। আরেকটা বিষয়ে অবাক হয়েছি, বিগ বাজেটের কাজের ক্ষেত্রে অডিশন হয়। দেখা গেল, আমাকে অডিশনে ডাকা হয়েছে, আমি টিকেছি। পরে দেখি কাজটা অন্য কেউ করছে। আমার হাত থেকে কাজ চলে যাচ্ছে!

আপনি ‘কাস্টিং কাউচ’-এর কথা বলছেন?
হ্যাঁ। এটা শুধু আমাদের শোবিজে নয়, সব জায়গায় আছে। শোবিজের লোকজনকে সবাই অনুসরণ করে, তাঁদের বিষয়গুলো আলোচিত হয় বেশি।

অবসরে কী করেন?
খাই আর ঘুমাই। আমি ফাস্ট ফুড খুব ভালোবাসি।