খালেদার নির্বাচন করার বিষয়ে আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার রায়ের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে বলা আছে, নৈতিক স্খলনের জন্য কারও যদি দুই বছরের অধিক সাজা হয়, তাহলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের দুটি রায় আছে, তাতে বলা আছে, আপিল যতক্ষণ না পর্যন্ত শেষ হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মামলা পূর্ণাঙ্গ স্থানে যায়নি, সে জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। আবার আরেকটি রায় আছে, তাতে পারবেন না। এখন ওনার (খালেদা জিয়া) ব্যাপারে আপিল বিভাগ এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা তাদের বিষয়।

রায় নিয়েও সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি করার পর সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, এটা আমাদের ভাবমূর্তি খুব একটা উজ্জ্বল করে না। তবে অন্ততপক্ষে পৃথিবীর কাছে বলতে পারব, যারা দুর্নীতি করে, এ দেশে তাদের বিচার হয়।’

রায়ের পর এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটিও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উকিল হিসেবে আমি যতটুকু জানি, তাতে আজকেই তাঁকে কারাগারে যেতে হবে। মামলার সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর তাঁরা আপিল করতে পারবেন। আপিলের সঙ্গে সঙ্গে জামিন আবেদনও করতে পারবেন।’

তবে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সার্টিফায়েড কপি আজই পাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।

রায়ের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আছে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সেটা এবারও প্রমাণিত হলো। রায়ে প্রমাণ হলো বাংলাদেশে বিএনপি আমলে অপরাধীদের যে স্বর্গ ছিল, তার অবসান হয়েছে। এখন এটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে অপরাধ করলে বিচার হয় এবং সুষ্ঠু বিচার হওয়ার পর তার শাস্তি হয়।

বিএনপি-জামায়াত জঙ্গি কাজে ওস্তাদ বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। এ জন্য তাই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে।