‘কান্নাকাটি করুম না, ঘটাব সরকারের পতন’

জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর হুমকি দিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে দুটি আলোচনা সভায় দলটির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই হুঁশিয়ারি দেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর প্রেস ক্লাবের সভায় বলেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে আপনারা (সরকার) জেল দেবেন, দেন। ভাবছেন আমরা কান্না-কাটি করুম, না।

“বলে দিতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আগে আপনাদের (সরকার) পতন ঘটাব। সরকারের পতন হলেই এবার খালেদা জিয়া মুক্ত, সরকারের পতন হলে এবার বাংলাদেশের মানুষ মুক্ত হবে।”

রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ বলেন, “যদি অন্যায়ভাবে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো রায় হয়, তাহলে আর মুক্তি আমরা দাবি করব না।

“এরপর যে আন্দোলন হবে, সেটা সরকার পতনের আন্দোলন হবে। আমরা সেই আন্দোলন শুরু করব।”

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিএনপির দাবি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দুদকের করা এই মামলায় সরকারের কোনো হাত নেই। বিচার প্রক্রিয়ায়ও সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

রায়ের দিন ঠিক হওয়ার পর থেকে বিএনপি নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপির আন্দোলনের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে যদি অন্যায়ভাবে কোনো রায়ের মাধ্যমে জেলের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে বিএনপির সিনিয়র নেতারা সকলে স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তারবরণ করে জেলে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন।“

সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য করার লক্ষ্য থেকে এই মামলার রায় দেওয়া হচ্ছে বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ।

মোশাররফ বলেন, “সরকারকে বলতে চাই, আপনারা বৃথা চেষ্টা করছেন, এদেশে সেরকম নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি ছাড়া এদেশে নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না।”